সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ
বিশ্ব যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আজকের এই লবন পানির আগ্রাসন থেকে মিষ্টি পানির পুকুর বাচাও শীর্ষক নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে পরিবেশবাদী বেসরকারী গবেষণা উন্নয়ন প্রতিষ্টান বারসিক। যুব দিবসের প্রতিপাদ্য (Intergenerational Solidarity, Creating A World For All Age) আন্তঃপ্রজন্মের প্রতি সংহতি জানিয়ে সকল বয়সের মানুষের উপযোগি একটি বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলি। আমরা সকলেই জানি বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অধিক জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অধিকমাত্রায় নির্ভরশীলতা, দুর্বল অবকাঠামো এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় সংঘটিত সাইক্লোন, লবনাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙ্গন, জলবদ্ধতার পাশাপশি উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিনিয়ত ভেড়িবাঁধ ভাঙনে কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে স্থানীয় জনগোষ্টি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে বারসিকের কর্মসুচি কর্মকর্তা গাজী আল ইমরানে সঞ্চালনায়¡ নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা আইযুব ডলি, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান গাজী আব্দুর রউফ ইউপি সদস্যা উমা রানী মল্লিক । নাগরিক সংলাপের ধারনাপত্র উপস্থাপন করেন বারসিকের কর্মসুচি কর্মকর্তা বাবলু জোয়ারদার।

নাগরিক সংলাপে স্থানীয় জনগোষ্টি মলিনা রানী রপ্তান,জোৎসনা রানী মন্ডল যুব সংগঠক প্রদীপ বলেন, বার বার নদীর বাধ ভাঙনের ফলে লবন পানির কারনে নারীদের মাসিকসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।গায়ের রং কালো হয়ে যাচ্ছে। পুকুরের লবন পানি অপসারন করে মিষ্টি পানি সংরক্ষন করতে হবে। নদী ভাঙনের হাত থেকে মিষ্টি পানির পুকুর গুলো যদি বাচানো যেত তাহলে আমরা একটু বাচতে পারতাম।

ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান গাজী আব্দুর রউফ ,উমা রানী বলেন,নদী ভাঙনের ফলে আমাদের মিষ্টি পানির পুকুর লবন পানিতে ডুবে গেছে। রাস্তাঘাট সব নষ্ট হয়ে গেছে। নারীদের পানি সংগ্রহ করতে অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এলাকায় কিছু বড় পুকুর থেকে লবন পানি অপসারন করে বুষ্টির পানি সংরক্ষন করতে হবে। আমাদের চারিদিকে লবন পানি ছাড়া পানি নেই। এলাকায় অনেকেই আ্যাসবেষ্টার্স এর পানি ধরে সংরক্ষন করে রাখছেন এটা আমাদের স¦াস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতি হচ্ছে।আমাদের এলাকায় বড় বড় পুকুর গুলো পুনখনন ও পাড় উচু করে পানি সংরক্ষন করতে হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন বলেন, জলে কুমির ডাঙায় বাঘ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই তিনটি নিয়ে আমরা উপকুলীয় এলাকায় বসবাস করি। আমি সব সময় আমার এলাকার মানুষের পাশে থাকি । তাদের সমস্যাও বুঝি। আমরা চেষ্টা করবো এলাকায় কিছু বড় পুকুর থেকে লবন পানি অপসারন করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষন করার। উপজেলা পরিষদের সাথে সার্বক্ষনিক স্থানীয় সরকারকে যোগাযোগ রাখার অনুরোধ জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তার হোসেন বলেন, প্রায়শই বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ভেড়িবাধ ভাঙনের মুখোমুখি হচ্ছে। বর্তমানে নদীর তলদেশ উচু হয়ে যাচ্ছে। বুষ্টির পানি সংরক্ষনে পানির ট্যাংক ও পিএসএফ সহযোগিতা করার কাজ চলমান আছে। আগামী এডিপির প্রকল্পে সিংহভাগ আমরা পানির জন্য খরচ করবো। এলাকায় যতগুলো মিষ্টি পানির খাল যেগুলো ইজারা আছে সেগুলো স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ইজারা বাতিল করে মিষ্টি পানির মাছ সংরক্ষন করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকেস্থানীয় মানুষের পাশে থাকার সব সময় চেষ্টা করছি ।
লবন পানির আগ্রাসন ঠেকাও নাগরিক সংলাপে আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা জনসংগঠন সম্বনয় কমিটির সভাপতি শেখ সিরাজুল ইসলাম, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, কর্মসুচি কর্মকর্তা বিশ্বজিত মন্ডল, রুবিনা পারভীন যুব প্রতিনিধি স্থানীয় জনগোষ্টিবৃন্দ।

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় প্রতিবছর নদীর বাধ ভেঙে লবন পানিতে প্লাবিত হয়।২০২১ সালে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আবার ২০২২ সালের জুলাই মাসে বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের ভেড়িবাধ ভেঙে মানুষের সবকিছু লবন পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। চোখের নিমিশে পানিতে ভেসে যায় ছোট বড় মিলিয়ে আনুমানিক প্রায় ২০০০ একর (৬০০০ বিঘা জমি) ৪৯০টি চিংড়ি মাছের ঘের, খাবার পানির ২৪টি পুকুর, সবুজে ঘেরা প্রতিটি বাড়িতে উৎপাদিত অসংখ্য সবজি বাগান, হাস মুরগী, বাগ-বাগিচা, অসংখ্য কাঠ, ওষধি এবং ফলের গাছ, ঘরবাড়িসহ অসংখ্য স্থাপনা যার আনুমানিক আর্থিক মূল্য প্রায় ২.৫ কোটি টাকা। বার বার লবন পানির আগ্রাসনের ফলে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যহত হচ্ছে ফলে মানুষ জলবায়ু উদ্বান্ত গয়ে গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যারা আক্রান্ত তাদের জন্য বিশ্ববাসীর নিকট জলবায়ুর ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য দাবী জানাই। আমরা আশা করছি এখানে উপস্থিত দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ, সাংবাদিক ভাইয়েরা, যুব সমাজ সবাই মিলে এই সমস্যার সমাধান করতে পারব। এবং এই জলবায়ু সংকটের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের ন্যায় বিচার বিশ্ববাসীর কাছে মিডিয়ার কাছে তুলে ধরে তা নিশ্চিত করতে পারব।

বিশ^ যুব দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আজকের এই সংলাপে জলবায়ু সংকটে আক্রান্ত জনমানুষ এবং যুব সমাজ নিচের দাবী ও সুপারিশ

প্রতিটি গ্রামের যে সব খাবার পানির পুকুর লবন পানিতে আক্রান্ত হয়েছে সেসব পুকুরের মধ্যে নূন্যতম ২ পুকুরের লবনপানি আপসরণ এবং পুণঃসংস্কার করতে হবে। উক্ত পুকুরে যাতে ভবিষ্যতে আর লবন পানি প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য পুকুরের পাড় উচু, শক্ত ও মজবুত করতে হবে। উক্ত কাজে স্থানীয় নারীদের মতামত এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পুকুরে পাড়ে প্রচুর পরিমান গাছ রোপন করতে হবে। সুপেয় পানির আধার তৈরী ও সংরক্ষনে সহায়তা আরো বাড়াতে হবে। উক্ত এলাকায় যত মিষ্টি পানির নালা, খাল আছে তা পুন:খনন করতে হবে। প্রাকৃতিক জলাশয় ইজারা বাতিল করতে হবে।টেকসই এলাকা উপযোগী ভেড়িবাঁধ নির্মান করতে হবে এবং এই কমিটিতে যুব প্রতিনিধি হিসেবে যুবদেরকে যুক্ত করতে হবে। ভেড়িবাধ সংস্কারের উপকরন স্থানীয় সরক