ডেক্স রিপোর্ট:
দক্ষিণ কোরিয়াকে মুখ বন্ধ রাখতে বলেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ছাড়লে উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করেছেন কিম ইয়ো জং।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, যার অধীনে পিয়ংইয়ং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ শুরু করলে তাদের পর্যায়ক্রমে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই পরিকল্পনাকে ‘দুঃসাহসী’ অভিহিত করে প্রথমবারের মতো উ. কোরিয়ার কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা সরাসরি এমন মন্তব্য করলেন।

ইউন গত বুধবার তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ১০০ দিন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবটি পুনর্ব্যক্ত করেন।

কিম ইয়ো জং রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মুখ বন্ধ রাখাই তাঁর (দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট) ভাবমূর্তির জন্য ভালো হতো।’ শুধু এ কথা বলেই ক্ষান্ত হননি কিম ইয়ো জং। এমন পরিকল্পনার জন্য তিনি ইউনকে ‘সরল এবং এখনো শিশুসুলভ’ বলে অভিহিত করেছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কেউ ভুট্টার পিঠা জন্য তার ভাগ্য বিনিময় করতে পারে না।’

ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা–পূর্ববর্তী দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টদের প্রস্তাবের ধারাবাহিকতা। ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কিম জং উনের বৈঠকেও এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ছিল। তবে তা ব্যর্থ হয়েছে। তখনো বলা হয়েছিল পিয়ংইয়ংয়ের এই প্রস্তাব গ্রহণের সম্ভাবনা খুব কম।

উত্তর কোরিয়া তাদের জিডিপির একটি বিশাল অংশ অস্ত্র কর্মসূচিতে খরচ করে। দীর্ঘদিন ধরে এটা স্পষ্ট যে তারা পারমাণবিক সক্ষমতাকে আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করে। তাদের বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়ার ও জাপানের ‘বৈরী’ নীতির মুখে নিজেদের রক্ষা করার জন্য এটি প্রয়োজনীয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে কিম জং উনের বোন বলেছেন, ‘তিনি ভবিষ্যতে আবার কোনো বড় পরিকল্পনা নিয়ে দরজায় কড়া নাড়তে পারেন। কারণ তাঁর এই ‘সাহসী পরিকল্পনা’ কাজ করবে না। আমরা পরিষ্কার করে দিচ্ছি যে আমরা তাঁর সঙ্গে মুখোমুখি বসব না।’
সূত্র: “প্রথম আলো”