মো. সেলিম হোসেন,গোপালপুর-টাঙ্গাইলঃ

অপমৃত্যুজনিত লাশের নিরাপত্তার জন্য গোপালপুর থানায় নির্মিত লাশ ঘর উদ্বোধন করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার। থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন এর সার্বিক সহযোগিতায় মঙ্গলবার দুপুরে ঘরটি উদ্বোধন করা হয়। এসময় গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহেল রানাসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, কোথাও কোন অপমৃত্যুর খবর পেলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন করে প্রথমে থানায় নিয়ে যায়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের এসব মৃতদেহ রাখার জন্য এতদিন থানায় নিরাপদ কোন ঘর ছিল না। তাই আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর আগ পর্যন্ত সময় সেই মরদেহ থানা প্রাঙ্গণে খোলাকাশের নিচে রাখা হয়। ফলে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে লাশের ব্যাপক ক্ষতি হত। আবার কোন কোন লাশ উদ্ধার করার সময় অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া যায়। সে লাশ থানা প্রাঙ্গণে রাখার কারণে সর্বত্র পচা দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে পুলিশসহ স্থানীয়রা বেকায়দায় পড়েন। এদিকে শেয়াল কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর হাত থেকে রক্ষার জন্য দুর্গন্ধ উপেক্ষা করে দিনরাত পুলিশ এসব লাশ পাহারা দেয়। যা খুবই হৃদয় বিদারক ও অমানবিক। এসব দৃশ্য দেখে ওসি মো. মোশারফ হোসেনের মনকে নাড়া দেয়। তিনি পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে থানায় লাশ ঘর নির্মাণ করেন। এর আগে তিনি কন্যা সন্তান জন্ম নিলেই বাড়ীতে গিয়ে ওই শিশুর মা বাবার হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এখন থানায় লাশ ঘর নির্মাণ করা জন্য তিনি সাধারণ জনগণের কাছে মানবিক পুলিশ অফিসার হিসাবে সুখ্যাতি অর্জন করেন।
এ প্রসঙ্গে ওসি মো. মোশারফ হোসেন জানান, চোখের সামনে এসব লাশের করুণ দশা দেখে মন খারাপ হয়ে যেত। গলিত লাশের দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ দুষিত হত। এত যে কারো মন ব্যথিত হত। তাই লাশ রাখার জন্য থানার একপাশে এক সার্টার বিশিষ্ট ছোট টিনসেড বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়। খোলাকাশে লাশ রাখার চেয়ে এ ঘরে লাশ অনেক নিরাপদে থাকবে।