মোঃ আলফাত হাসান উপকূলীয় প্রতিনিধিঃ জেলার শ্যামনগর উপজেলার ৫ নং কৈখালী ইউনিয়নের ১ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মধ্যেবর্তী চলাচলের রাস্তা কেটে চাষের জমির সাথে বিলীন করে দিচ্ছে স্থানীয় বসাবসকারী কয়েকজন মানুষ। ঘটনাটি ঘটেছে ডাঃ রহুল আমীনের বাড়ি হতে নৌকাটি মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নওশেরুজ্জামানের বাড়ি পর্যন্ত, সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় ১ ও ৩ মধ্যেবর্তী রাস্তাটিতে ভূক্তভোগী,আলতাফ হোসেন, বাবলু গাজীসহ স্থানীয় বসবাসকারীরা জানান, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর যাবৎ তারা এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন। সরকারের অর্থে একাধিকবার রাস্তাটি সংস্কার করা হয়েছে বর্তমানে এলাকার মানুষ সচেতন হওয়ায় অবৈধভাবে বেঁরিবাঁধ ছিদ্র করে অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ নোনাপানি বন্ধ করায় মাছ চাষীরা ঘের বন্ধ করতে বাধ্য হন,ও মানুষ ধান চাষে আগ্রহী হওয়ায় হঠাৎ করে কয়েক জন চাষী ৮০- ১০০ ফুট রাস্তা কেটে চিকন করে দেন,রাস্তাটি পূর্বে চওড়া ছিল ৬ ফুট বর্তমান কেটে বিলীন করার ফলে এখন রাস্তাটি চওড়া আছে মাত্র ৩ ফুটের মতো,এছাড়াও ৮-৯ বছরের পুরোনো রাস্তাটি পুনরায় কোনো রকম সংস্কার না হওয়ায় লোক চলাচলের মাটির রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে,ফলে নানা রকম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে ওই রাস্তার পাশে থাকা কয়েকটি পরিবার।
অভিযুক্ত রাস্তা কেটে নেওয়া পক্ষের কয়েকজন বলেন, এটা কোন সরকারী রাস্তা নয় তাদের রেকর্ডিয় জমি তারা চাষের জমির সাথে মিলিয়ে নিয়েছেন ।
এ বিষয়ে কৈখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জি এম রেজাউল করিম প্রতিবেদককে জানান, ১-৩ নং ওয়ার্ডের মধ্যেবর্তী বড় মৌকটলাখাল পাড়ার ওই রাস্তার মাটি কাটা সম্পর্কে তিনি জানেন না এবং এর আগে ও এ বিষয়ে কোনোরকম অভিযোগ দেয়নি কেউ,তবে আমি এখন জানলাম এই রাস্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবো,যেহেতু রাস্তাটিতে এর আগে আমি কৈখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান থাকাকালীন ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দে স্থানীয় সকলের সুবিধার্তে মাটির রাস্তা নির্মাণ করেছিলাম।
স্থানীয় বসবাসকারীরা জানান এই রাস্তাটি প্রায় ৪-৫ হাজার মানুষ সুবিধাভোগ করে,তবে দুঃখজনক হলে ও সত্যি পাশে সরকারি খাস খাল থাকার পরে ও রাস্তাটির যখন ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে সরকারি কাজ হয়,রাস্তা বিলীনকারী পক্ষের স্বার্থে,রাস্তাটি তারা নিজেরাই সমঝোতা করে তাদের নিজেদের সরকারি দখলকৃত খাস- খাল রেখে মালিকানাধীন জায়গায় রাস্তাটি করে,এবং ঘের বন্ধ হওয়ায় স্বার্থ হাসিলের জন্য রাস্তাটি বিলুপ্তির পথে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মল্লিক আমিনুর রহমান প্রতিবেদককে জানান রাস্তাটি আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নের মাধ্যমে গ্রাম্য ডাক্তার রুহুল আমিনের বাড়ি হতে কালিন্দী নদীর সুপার হুজুরের বাড়ি পর্যন্ত সফলভাবে ২০১৪ সালে তৈরি করি রাস্তা কাটার ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে বলেন আমি দেখেছি এবং আলতাফ আমার কাছে অভিযোগ করলে আমি রাস্তা কাটার সাথে যাহারা জড়িত তাদের কাছে রাস্তা কাটার বিষয় শুনেছি তাহারা আমাকে বলেছে রাস্তা তাদের মালিকানা জায়গায় হওয়ায় তারা কাটছেন, তবে রাস্তা কেটে অন্যায় করছে বলে মনে করি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে,শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ কাজী ওয়াহিদ মুর্শিদ জানান এবিষয়ে কেউ থানায় নিদিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি,তবে লিখিত অভিযোগ বা জিডি করলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তবে এ ব্যাপারে পশ্চিম কৈখালী মোঃ খলিল গাজীর পুত্র আলতাফ হোসেন বাদী হয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান সহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করলে ও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান।
এ ব্যাপারে কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিমের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মহল্লাবাসীরা জানান ইউনিয়ন জনপ্রতিনিধি ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন গ্রামবাসী যাহাতে রাস্তাটির সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ হয়।